ছয় বছর পর মেঘবন্দীতে ফেরা



ছয় বছর আগে যখন মেঘবন্দী শুরু করেছিলাম, তখন পৃথিবীও যেন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছিল। মুহূর্তের মধ্যে চেনা শহর অচেনা হয়ে গেল।

সেদিনও রোজকার মতো অফিস করছিলাম। হঠাৎ CEO একটি স্ট্যান্ডিং মিটিং ডাকলেন। তারপর বললেন, "কাল থেকে হোম অফিস। সবাই দ্রুত বাসায় চলে যান, আর অবশ্যই নিরাপদ থাকবেন।"

বাসায় ফিরে এলাম। চারদিকে তখন মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনের হাহাকার, উৎকণ্ঠা নিয়ে স্বাস্থ্য বুলেটিন শোনা, হিসেব রাখা—আজ কতজন আক্রান্ত, কতজন মারা গেলেন।

কিন্তু কিছুদিন পর খেয়াল করলাম, খুব দ্রুত গতিতে ছুটে চলা জীবনটা হঠাৎ যেন ধীর হয়ে গেছে।

বেশ মজাই তো! সকাল থেকে অফিস, কাজের ফাঁকে পরিবারের সঙ্গে সময়, আর বিকেল হলেই ছাদে চলে যাওয়া। ছাদে ছাদে ঘুড়ির মেলা। শেষ কবে এমন রঙিন সময় কেটেছে, মনে করতে পারি না। শেষ কবে মাগরিবের নামাজের পর বাসার সবাই একসঙ্গে বসে চা খেয়েছি, সেটাও মনে পড়ে না।

অস্থির সময় ছিল, তবু সাবধানে থেকে সময়টা বড্ড ভালো লেগেছিল। অদ্ভুত এক অনুভূতি—একদিকে মৃত্যুভয়, অন্যদিকে বহু বছর পর হারিয়ে যাওয়া অবসর আর মুক্তিকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই তখন সময় কাটানোর জন্য কিছু না কিছু করছিল। আমিও বহুদিনের ইচ্ছেটাকে জাগিয়ে তুললাম। শুরু করলাম মেঘবন্দী।

করোনার দিনগুলোতে মেঘবন্দী ছিল আমার খুব প্রিয় এক শহর। একদিকে প্রতিদিনের মৃত্যু-আতঙ্ক, অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া নিজেকে ফিরে পাওয়ার উল্লাস।

তারপর পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। ফিরে এলো রোজকার ব্যস্ততা, যান্ত্রিক জীবন, ছুটে চলা দিনগুলো। আর আমার মেঘবন্দী শহরও ধীরে ধীরে অবহেলার খাঁচায় বন্দী হয়ে গেল।

আজ আবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করছে।

ছয় বছর আগের আমার দিকে তাকালে মনে হয়, সে যেন অন্য এক জগতের মানুষ। তার স্বপ্ন, তার ভাবনা, তার পৃথিবী—সবকিছুই আজকের আমার কাছে অদ্ভুত রকমের অপরিচিত।

তবু হয়তো সেই মানুষটার সঙ্গেই আবার দেখা করার সময় এসেছে।

তাই আবার শুরু করছি।

প্রিয় মেঘবন্দী শহর, আমি ফিরে এলাম।

কোন মন্তব্য নেই

Terraxplorer থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.